ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হারে এসএসসি ও দাখিলে এগিয়ে রয়েছে আশুগঞ্জ উপজেলা। তবে এসএসসিতে পাসের হারে আশুগঞ্জ এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা রয়েছে সবার ওপরে। আর এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় পাসের হারে জেলার সেরা হয়েছে বিজয়নগর উপজেলা।
জেলা শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত উপজেলাভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
এসএসসিতে পাসের হারে আশুগঞ্জ সেরা
জিপিএ-৫-এ সদর এসএসসি পরীক্ষায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নয় উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পাসের হার অর্জন করেছে আশুগঞ্জ। এ উপজেলায় মোট এক হাজার ১০৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৯৭ জন উত্তীর্ণ এবং ১১২ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৬ জন।
পাসের হারে আশুগঞ্জের পর রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা। সদরে পাসের হার ৮০ দশমিক ৬৫ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫-এর সংখ্যায় আশুগঞ্জকে অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছে সদর। সদর উপজেলায় ৬৮২ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ।
এসএসসিতে পাসের হারে বাঞ্ছারামপুর ৭০ দশমিক ৩৮ শতাংশ, নাসিরনগর ৬৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ, নবীনগর ৬৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ, বিজয়নগর ৬৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ, সরাইল ৬৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ, আখাউড়া ৬৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং কসবা ৬২ দশমিক ৭১ শতাংশ অর্জন করেছে।
জেলায় এসএসসি পরীক্ষায় মোট ১৯ হাজার ৭৫৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ হাজার ১২০ জন উত্তীর্ণ এবং পাঁচ হাজার ৬৩৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। জেলার সামগ্রিক পাসের হার ৭১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট এক হাজার ৪০২ জন।
দাখিলেও জেলার সেরা আশুগঞ্জ
মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষাতেও পাসের হারে জেলার সেরা হয়েছে আশুগঞ্জ। এ উপজেলায় পাসের হার ৯০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। আশুগঞ্জে দাখিল পরীক্ষায় মোট ২৯৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৬৬ জন উত্তীর্ণ এবং ২৮ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে সাতজন।
দাখিলে পাসের হারে আশুগঞ্জের পর রয়েছে সরাইল ৮১ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং সদর ৭৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এরপর নাসিরনগর ৬৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ, নবীনগর ৬৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ, বিজয়নগর ৬০ দশমিক ৩১ শতাংশ, কসবা ৫৫ দশমিক ৩০ শতাংশ, বাঞ্ছারামপুর ৫২ দশমিক ০২ শতাংশ এবং আখাউড়া ৪৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
দাখিলে জেলায় মোট চার হাজার ৩৮৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে দুই হাজার ৭৩৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। অনুত্তীর্ণ হয়েছে এক হাজার ৬৫৫ জন। জেলার মোট পাসের হার ৬২ দশমিক ২৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৭ জন।
কারিগরিতে বিজয়নগর সবার ওপরে
এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় পাসের হারে অন্য দুই ধারার চেয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এ পরীক্ষায় জেলার সর্বোচ্চ ৯৪ দশমিক ১৮ শতাংশ পাসের হার অর্জন করেছে বিজয়নগর উপজেলা।
বিজয়নগরে মোট ৮৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮১ জন উত্তীর্ণ এবং পাঁচজন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে তিনজন।
কারিগরি পরীক্ষায় পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে সরাইল—৮৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আশুগঞ্জে ৮২ দশমিক ৮৮ শতাংশ, নাসিরনগরে ৭০ শতাংশ, সদরে ৭০ শতাংশ, নবীনগরে ৬০ দশমিক ৫৩ শতাংশ, কসবায় ৫২ দশমিক ১৭ শতাংশ, বাঞ্ছারামপুরে ৪৯ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং আখাউড়ায় ২৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
আশুগঞ্জে কারিগরি পরীক্ষায় মোট ১৪৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২১ জন উত্তীর্ণ এবং ২৫ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে পাঁচজন।
জেলায় এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় মোট এক হাজার ৩৮৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৬৮ জন উত্তীর্ণ এবং ৫২১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। জেলার সামগ্রিক পাসের হার ৬২ দশমিক ৪৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ জন।
তিন ধারায় ফলাফলের ভিন্ন চিত্র
জেলা শিক্ষা অফিসের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিন ধরনের পরীক্ষায় পাসের হারে দুই উপজেলার সাফল্য সবচেয়ে বেশি। সাধারণ এসএসসি ও দাখিল—দুই পরীক্ষাতেই পাসের হারে জেলার সেরা আশুগঞ্জ। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষায় শীর্ষে বিজয়নগর।
তবে এসএসসির ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫-এর সংখ্যায় ভিন্ন চিত্র রয়েছে। পাসের হার ৯০ শতাংশ নিয়ে আশুগঞ্জ জেলার সেরা হলেও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় সদর উপজেলা অনেক এগিয়ে। সদরে ৬৮২ জন, আশুগঞ্জে ৯৬ জন এবং নবীনগরে ১৭৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
অর্থাৎ, পাসের হারে আশুগঞ্জের সাফল্য থাকলেও ভালো ফলের সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ-৫-এর সংখ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা এগিয়ে রয়েছে। আর কারিগরি শিক্ষায় ৯৪ দশমিক ১৮ শতাংশ পাসের হার নিয়ে বিজয়নগর জেলার শীর্ষস্থান দখল করেছে।
সব মিলিয়ে এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল)—এই তিন পরীক্ষায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মোট ২৫ হাজার ৫৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ হাজার ৭২২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। তিন পরীক্ষায় সম্মিলিত পাসের হার ৬৯ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং মোট এক হাজার ৪৯৯ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।